LogoHormuzan

ট্রিপল সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন হৃদয়

ডাবল সেঞ্চুরিতে না থেমে এক রাতের ব্যবধানে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন তাওহিদ হৃদয়। পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৪৫০ বলে ৩০১ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন হৃদয়।

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬3 views
ট্রিপল সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন হৃদয়
Daily Muktimarg

ডাবল সেঞ্চুরিতে না থেমে এক রাতের ব্যবধানে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন তাওহিদ হৃদয়। পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৪৫০ বলে ৩০১ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন হৃদয়।

বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি এটি। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ পেরোনো তৃতীয় ব্যাটারও এখন তাওহিদ হৃদয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের চাপা পড়ে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশ ‘এ’ দল সেই ম্যাচেই কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন হৃদয়। আগের দিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করে সেই ইনিংসকে নিয়ে গেলেন ৩০০-এর ওপারে। ২৫ চার ও ৬ ছক্কার ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণকে যেন একাই শাসন করলেন বাংলাদেশের তরুণ অধিনায়ক।

হৃদয়ের এই ইনিংসের আগে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি ছিল কেবল দুজনের। ২০০৬-০৭ মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশালের হয়ে ৩১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন রকিবুল হাসান। এরপর ২০১৯-২০ মৌসুমে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে পূর্বাঞ্চলের হয়ে ৩৩৪ রানে অপরাজিত থেকে রকিবুলের রেকর্ড ভেঙেছিলেন তামিম ইকবাল। তবে বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এখন তার।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। প্রোটিয়াদের মাঠে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বিদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংস এখন হৃদয়ের ৩০১*। এর আগে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে এমসিসির হয়ে ডেনিস কম্পটনের ৩০০ রানই ছিল সর্বোচ্চ। হৃদয় সেই রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন।

শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডেই থামেনি হৃদয়ের ব্যাট। তার ট্রিপল সেঞ্চুরির সৌজন্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার ৬০০ রানের ঘরে ঢুকেছে বাংলাদেশ ‘এ’। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’-র ৫১২ রানের জবাবে তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৭১ রান ছিল বাংলাদেশের। সেখান থেকে শেষ দিনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হৃদয়।

এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে বড় ভূমিকা ছিল জাকের আলী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। পঞ্চম উইকেটে জাকেরের সঙ্গে হৃদয়ের জুটি থেকে আসে ১৫১ রান। জাকের ১৬৮ বলে ৯৪ রান করে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ছয় রান দূরে থামেন। এরপর সাইফউদ্দিনকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে হৃদয়ের জুটি হয় ১৮৫ রানের। সাইফউদ্দিনের ব্যাট থেকে আসে ১৭১ বলে ৮৭।

এর আগে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল পুরোপুরি দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে। সেনোকওয়ানের ১১১, কেশিলের ১২৮ এবং কাপলানের ৯৭ রানে ভর করে ৫১২ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল স্বাগতিকরা। সেই পাহাড়সম স্কোরের সামনে বাংলাদেশের লড়াই তখন কঠিনই মনে হচ্ছিল।