LogoHormuzan

৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ পেলেন নতুন দায়িত্ব

বর্তমান সরকার দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের হুইপকে দিয়েছে।

২৭ আগস্ট, ২০২৬3 views
৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ পেলেন নতুন দায়িত্ব
Daily Muktimarg

বর্তমান সরকার দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের হুইপকে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে সই করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার নিজস্ব ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

সরকারের ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করেছে, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’ বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে তা লুটপাট করা হয়েছে। লুট করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদক, সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তা-জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি নির্মূলকে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোন জেলার দায়িত্বে কে-

ইকবাল হাসান মাহমুদ—রাজশাহী ও নাটোর
ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন—লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়
আব্দুল আউয়াল মিন্টু—লক্ষ্মীপুর
নিতাই রায় চৌধুরী—চুয়াডাঙ্গা
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির—হবিগঞ্জ
আরিফুল হক চৌধুরী—মৌলভীবাজার
মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী—চট্টগ্রাম
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত—শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
আসাদুল হাবিব দুলু—ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর
মো. আসাদুজ্জামান—খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট
জাকারিয়া তাহের—ফেনী ও নোয়াখালী
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল—মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ
সাচিং প্রু—কক্সবাজার
মো. শরীফুল আলম—টাঙ্গাইল ও নরসিংদী
শামা ওবায়েদ ইসলাম—মাদারীপুর ও শরীয়তপুর
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত—মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ
আব্দুল বারী—বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু—ঢাকা
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন—খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি
হাবিবুর রশিদ—গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ
মো. রাজীব আহসান—বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর
মীর শাহে আলম—রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম
ফারজানা শারমিন—সিরাজগঞ্জ ও পাবনা
শেখ ফরিদুল ইসলাম—যশোর, মাগুরা ও নড়াইল
ইয়াসের খান চৌধুরী—জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ
আহমেদ সোহেল মঞ্জুর—বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি
মোহাম্মদ শামীম কায়সার—জয়পুরহাট ও নওগাঁ
আলহাজ মো. জি কে গউস—সিলেট ও সুনামগঞ্জ
মিয়াঁ নুরুদ্দিন আহম্মেদ—রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ
এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)—ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্তরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। এর মধ্যে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনের বিষয়ও রয়েছে।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাদের থাকবে।

প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালিবিধির সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় মন্ত্রিসভায় বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০০৩ সালের একটি রিট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রায়ের কথাও উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।

তবে এ দায়িত্ব পালনের ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য কোনো সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার নিজস্ব আইনগত ক্ষমতা খর্ব হবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।