LogoHormuzan
অর্থনীতি

`তাপপ্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি'

ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজার ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

১ আগস্ট, ২০২৬1 views
`তাপপ্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি'
Daily Muktimarg

ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজার ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রতিবছর এ অঞ্চলে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির আকার প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ‘বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ: দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোকে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা করে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি সুরক্ষার উপায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আরো ২৮ কোটি বাড়বে। তবে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে শ্রমঘণ্টা কমে গেলে এই জনসংখ্যাগত সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ৫২ কোটি মানুষ বছরে অন্তত এক মাস বিপজ্জনক মাত্রার তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে পারেন। বর্তমানে এ ধরনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমের কারণে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটছে এবং শহরগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও দুর্বল হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, নারী, শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় ভিত্তি শহরগুলো। তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় কর্মসংস্থান, জীবিকা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।” তার মতে, তাপসহনশীল নগর গড়ে তোলা এখন শুধু পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিক প্রয়োজনও।

প্রতিবেদনে তাপপ্রবাহকে কেবল মৌসুমি দুর্যোগ হিসেবে না দেখে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরকারি নীতিতে তাপঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ জন্য তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, কার্যকর তাপপ্রবাহ মোকাবিলা পরিকল্পনা, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের সুরক্ষা, জ্বালানি-সাশ্রয়ী শীতলীকরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, আগাম সতর্কবার্তা উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের প্রধান জন ওয়ারবার্টন বলেন, তীব্র গরম শুধু জলবায়ু নয়, উন্নয়ন ও দারিদ্র্যের সংকটও তৈরি করছে। উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া এবং জীবিকা হারানোর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। তাই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে নগর সবুজায়ন, তাপসহনশীল অবকাঠামো, আগাম সতর্কবার্তা এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী শীতলীকরণ ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। তবে, দ্রুত নগরায়ণের প্রেক্ষাপটে এসব উদ্যোগ আরো বিস্তৃত করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, উন্নত সমন্বয় এবং অধিক বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।